Breaking News
Home / বই থেকে / উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘোষণা

উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘোষণা

এভাবে একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করতে লাগল বৃটিশরা। এ ধরণের বিভিন্ন কৌশলে তারা ইসলাম, মুসলমান ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার সবগুলোকে যখন পঙ্গু করা শুরু করল তখন জাতির চিন্তাশীল লোকেরা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে লাগলেন। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে, উম্মাহর এই সন্ধিক্ষণে চুপ না থেকে এগিয়ে আসলেন নবীর যোগ্য উত্তরসূরীরা। তৎকালীন ভারতের সর্ব্জনমান্য, শ্রেষ্ঠ আলেম ও বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ছিলেন হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) । তিনি জাতির মাঝে আজাদীর চেতনা সঞ্চার করতে লাগলেন। তারপর তাঁর যোগ্য উত্তরাধিকারী পুত্র হযরত শাহ আব্দুল আযী্য দেহলভী রহ. ও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি এই উপমহাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম ইংরেজ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে আজাদীর ডাক দেন। প্রিয় মাতৃভূমি শত্রু কবলিত ‘দারুল হরব’ বলে ফতোয়া দেন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বাত্মকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া সকলের জন্য ফরজ বলে ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন।

এই বিস্মৃত ঐতিহাসিক সত্যটি আজ আমাদের অনেকেরই জানা নেই যে, ভারত উপমহাদেশের আজাদী আন্দোলনের জন্য সর্বপ্রথম আহ্বাঙ্কারী, সর্বপ্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাকারী ব্যক্তটি নেহেরু, গান্ধী, শওকত আলী কিংবা কায়েদে আযম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ছিলেন না। তিনি ছিলেন হযরত শাহ আবদুল আজীজ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.। শাহ আবদুল আজীজ মুহাদ্দিদে দেহলভী রহ. এর ১৮০৩ খৃস্টাব্দের গতোয়ার ভিত্তিতেই সর্বপ্রথম সমগ্র ভারত উপমহাদেশে স্বাধীনতার জোয়ার ওঠে। শুরু হয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ। এই ঘোষণার দ্বারাই আত্মবিস্তৃত মুসলমানদের অনুভূতিতে ইংরেজরা যে মুসলমানদের শত্রু, তাদের এদেশ শাসন মানা যায় না, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, বিষয়টি প্রকটভাবে উপলব্ধিতে আসে।

আরম্ভ হয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ। এ সূত্রেই বালাকোট যুদ্ধ ও শ্যামলীর যুদ্ধ হয়। বালাকোট যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন সাইয়েদ আহমদ বেরেলবী রহ.। শ্যামলীর যুদ্ধে মুসলমানদের প্রধান সেনাপতি ছিলেন হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ.। এই কাসেম নানুতবী সেই কাসেম নানুতবী যিনি দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসার যত কৃতি সন্তান আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন একজন হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ.। হ্যাঁ, এই ইলিয়াস রহ.-ই বর্তমান সময়ে দ্বীনের অন্যতম প্রচার মাধ্যম তাবলীগের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। প্রবর্তন করেছিলেন তাবলীগের ছয় উসূল। চল্লিশ দিনের চিল্লার মাধ্যমে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ও প্রকৃতি মনুষ্যত্ব অর্জনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

আমার আলোচনা চলছিল, তাবলীগ জামাত কাদের গায়ে সয়না? কেন সয়না? কখন থেকে সয় না? এ নিয়ে। এ বিষয়টি একটু পরেই স্পষ্ট হবে। আর এজন্যই অতীত থেকে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গটি টেনে এনেছি। বিষয়টি সহজবোধ্য করার জন্য উপরোক্ত ইতিহাসের পরের অংশটি সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আরো পড়ুন>>>   

আপনি পড়ছেন: “তাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে” বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE