Breaking News
Home / বই থেকে / শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বৃটিশদের গোপন বৈঠক

শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বৃটিশদের গোপন বৈঠক

সমগ্র ভারত উপমহাদেশ যখন উত্তপ্ত, উদ্বেলিত। জিহাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দেশের বিশাল জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ। ইংরেজদের ক্ষমতার মসনদ যখন নড়বড়ে হয়ে গেছে একেবারে দম যায় যায় অবস্তা তখন উদ্ভুত পরিস্থিতির মোকাবেলা করা এবং এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণের জন্য ইংরেজদের সকল জ্ঞানী পণ্ডীতদের মিটিং বসল ১৮৬৩ সালে। লণ্ডনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ মিটিংয়ের আলোচ্য বিষয় ছিল, “ভারতে ইংরেজদের শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার”।

পূর্বাপরের ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে তারা আশ্চর্য হয়ে গেল যে, কিভাবে একজন মোল্লার ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদের ফতোয়ায় সারা দেশের মুসলমানরা জেগে উঠল। আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। স্বাধীনতার দাবানল জ্বলে উঠল সারাদেশ।

অনেক পর্যালোচনা করার পর তারা ভেবে দেখল যে, যদি এভাবে যুদ্ধের আগুন জ্বলতে থাকে, তাহলে এদেশে আর আমাদের শাসন ক্ষমতা বেশি দিন টিকবে না। তাই যে কোনভাবেই হোক না কেন যুদ্ধের আগুনকে স্তিমিত করতে হবে। স্তদ্ধ করে দিতে হবে স্বাধীনতার আওয়াজকে। ছত্রভঙ্গ করে দিতে হবে ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহী জনতাকে।

এজন্য তারা সকলে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিল যে, যেহেতু মুসলমানদের নেতৃত্ব দেয় আলেমরা। আর মুসলমামরা আলেম বা মোল্লা হয় কুরআন—হাদীসের গভীর জ্ঞান অর্জনের পর। অতএব আমাদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা এই যুদ্ধের মূলে রয়েছে দু’টি জিনিস। এক. আলেম নামক মোল্লা। দ্বিতীয়. মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন।

সুতরাং ভারতের বুকে আমাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে হলে এই উভয়টিই ধ্বংস করে দিতে হবে। মোল্লাদেরকেও মেরে ফেলতে হবে আর কুরআনের সকল এডিশন ও কলিও জ্বালিয়ে দিতে হবে। এই উভয় শত্রু নিঃশেষ করতে পারলেই আমাদের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ এক সময় স্তিমিত হয়ে যাবে। বন্ধ হবে সকল প্রতিবাদ—প্রতিরোধ।

ভারত উপমহাদেশের সকল আলেমদেরকে হত্যা আর সকল কুরআন জ্বালিয়ে দেয়া—এই দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইংরেজদের গোপন মিটিং। আর এই সামান্য অব্যাবহিত পরেই শুরু হয় এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। সমগ্র ভারত উপমহাদেশ ব্যাপী শুরু হয় আলেম নিধন ও কুরআন জ্বালিয়ে দেয়ার এক পৈশাচিক অপতৎপরতা। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাত্র তিন-চার বছরের মধ্যেই ইংরেজরা ভারত বর্ষের ১৪ হাজার উলামায়ে কিরামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। আরো অনেক আলেমকে আগুনে পুড়িয়ে শহীদ করে। সমগ্র ভারত থেকে সংগ্রহ করে লক্ষ লক্ষ কুরআনের কপি পাহাড়ে নিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় অব্যাহতভাবে চলতে থাকে এই নারকীয় বিভৎস তাণ্ডবলীলা।  আরো পড়ুন>>>

আপনি পড়ছেন: “তাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে” বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE