Home / বই থেকে / দেওবন্দ মাদরাসার উপর বৃটিশদের বয়কট

দেওবন্দ মাদরাসার উপর বৃটিশদের বয়কট

বৃটিশরা যখন দেখল যে, দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে দিগ্বিজয়ী সেনানীরা তৈরি হচ্ছে। আজাদী আন্দোলনের জন্য যোগ্য সব সিপাহসালার শপথ নিচ্ছে তখন তারা দেওবন্দ মাদ্রাসার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল এবং এই মাদরাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য   ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠল।

দারুল উলূম দেওবন্দ যে স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেখানকার জমিদারকে একদিন বৃটিশরা ডেকে বলল : “তোমার জমিদারীর এলাকায় মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখান থেকে আমাদের দুশমন সৃষ্টি হচ্ছে। কাজেই তোমার এলাকার লোকজনকে বলে দিবে তাদের কেউ যেন ঐ মাদরাসায় দান না করে, সাহায্য না দেয় এবং মাদরাসার কোন ছাত্রকে জায়গীর না দেয়। যদি তোমরা তাদেরকে সাহায্য না করো তাহলে মোল্লারা এমনিতেই এক সময় দুর্বল হয়ে যায় যাবে এবং মাদরাসাও বন্ধ হয়ে যাবে। আর আমাদের দুশমন তৈরি হওয়ার ঘাঁটিও বন্ধ হয়ে যাবে।

বৃটিশ সরকারের নির্দেশ পেয়ে জমিদারও তাঁর অধীনস্থ কৃষকদেরকে সরকারী ফরমান শুনিয়ে দিল। দেওবন্দ মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে কোন প্রকার সহযগিতা না করার জন্য কড়া নির্দেশ জারী করল। শেষে কৃষকদেরকে এই কথাও বলে দিল যে, কেউ যদি আমাদের কথা না শুনে, তাহলে আমরা তাদেরকে চাষের জন্য জমি দেব না।

যথাসময়ে এ সংবাদ মাদরাসায় গিয়ে পৌঁছল। সে সময় একজন উস্তাদ ছাত্রদেরকে পড়াছিল। তিনি এ সংবাদ শুনে কাঁদতে লাগলেন। তাঁর চোখ দিয়ে পানি টপ টপ করে পড়তে লাগল। উস্তাদের এই অবস্থা দেখে ছাত্ররা বলল : “হুযুর! কৃষকরা যদি আমাদেরকে চাঁদা দেয়, জায়গীর দেয়, তাহলে জমিদার তাদেরকে জমি চাষ করে খেতে দিবে না। আর তারা আমাদেরকে সহযোগিতা না করলে আমরা চলে যাবো এবং মাদরাসা বন্ধ হয়ে যাবে, এজন্যই কি আপনি কাঁদছেন? কাদার কোন কারণ নেই। আমরা কাফির সরকারের উপর ভরসা করে নবীর দ্বীন শিখতে আসিনি। এরা যদি জায়গীর না দেয়, চাঁদা না দেয়, তাহলে নবীর সাহাবাগণ যেমনভাবে পেটে পাথর বেঁধে দ্বীনের কাজ করেছেন, জিহাদের কাজ করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে আমরাও কষ্ট করে দারুল উলূম দেওবন্দে পড়ালেখা চালিয়ে যাবো’।

তখন সেই উস্তাদ তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন : “তোমরা যা ভেবেছ, আসল ব্যাপার তা নয়। এরা তোমাদের চাঁদা না দিলে, জায়গীর না দিলে তোমরা চলে যাবে আর মাদরাসা বন্ধ হয়ে যাবে, তা ভেবে আমি কাঁদিনি। আমি কাঁদছি এই দুঃখে যে, নবীর ঘরের মেহমানদেরকে রিযিক যারা বন্ধ করার হুমকী; মহান আল্লাহ বতাআলা তাদের গোষ্ঠীসহ রিযিক বন্ধ করে দিতে পারেন। এই ভয়ে আমি কাঁদছি”। আরো পড়ুন>>>

আপনি পড়ছেন: “তাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে” বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *