Breaking News
Home / বই থেকে / অভিশপ্ত ইবলিসের ভিক্ষা প্রার্থনা

অভিশপ্ত ইবলিসের ভিক্ষা প্রার্থনা

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইবলিসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন :

আরবী………

অর্থ : “তোকে কোন জিনিস আদমকে সিজদা করা থেকে নিষেধ করল?” (সূরা আরাফ : ১২)

তখন ইবলিস জবাবে বলেছিল :

আরবী………

অর্থ : “আমি তো তাঁর থেকে শ্রেষ্ঠ, আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে। আত তাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে।” (সূরা আরাফ : ১২)

অপর এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে :

আরবী………..

অর্থ : “আর আমি যখন ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ করলাম যে, তোমরা সকলে আদমকে সিজদা কর, তখন সকলেই সিজদা করল কিন্তু ইবলিস করল না। সে উল্টো প্রশ্ন করল : আমি কি এমন জিনিসকে সিজদা (সম্মান) করব, যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? (অর্থাৎ মাটি দিয়ে তৈরি কেউ সম্মানের যোগ্য হতে পারে না)” (সূরা বনী ইসরাঈল : ১২)

তখন মহান আল্লাহ তা’আলা এর জবাবে বললেন :

আরবী……

অর্থ : “তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। কেননা তুমি অভিশপ্ত”। (সূরা হিজর : ৩৪)

আল্লাহ যখন ইবলিসকে অভিশপ্ত করলেন তখন ইবলিস বলে উঠল : “হে আল্লাহ! তোমার দরবার থেকে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত হয়ে গেলাম। আর তো কোনদিন তোমাদের কাছে স্থান পাবো না। সুতরাং বিদায়কালে আমাকে কয়েকটি জিনিস ভিক্ষা দাও।”  এরপর শয়তান কয়েকটি আবদার জানাল। তাঁর প্রার্থিত বিষয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন :

আরবী…………

অর্থ : “শয়তান বলল, যতদিন পর্যন্ত আদম জাতি দুনিয়ার বুকে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আমাকে দীর্ঘ জীবন দান করুন।” (সূরা আরাফ : ১৪)

তাঁর এই আবদার কবুল করে আল্লাহ বললেন :

আরবী……….

অর্থ : “তোর দরখাস্ত কবুল করলাম এবং সেই পর্যন্ত তুই হায়াত পাবি।”( সূরা আরাফ : ১৪)

এরপর ইবলিস বলল, “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আরেকটি জিনিস চাই। তা হচ্ছে আদমকে মাটির তৈরি হওয়ার কারণে সিজদা না করে আমি অভিশপ্ত হয়েছি, সেই আদমের সন্তান যত দিন পর্যন্ত দুনিয়াতে থাকবে তত দিন পর্যন্ত তাদের মন—মস্তিঙ্কে, রগ-রেশায় ঢুকে ঢুকে তাদের দ্বারা যে কাজ করালে তাদেরকে জাহান্নামের নেয়া যাবে তাদেরকে সেই কাজের কু—মন্ত্রণা দেয়ার শক্তি আমাকে দাও।”

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন : “তোর এই আবদারও মঞ্জুর করলাম।”

একটি প্রশ্ন ও তাঁর জবাব

শয়তানের উভয় আবদারই আল্লাহ মঞ্জুর করলেন। একথা শুনলে অনেকের মনের মাঝে একটা প্রশ্ন জাগে যে, আল্লাহ তাআলা এমনটি করলেন কেন? যদি আল্লাহ শয়তানের আবদার মঞ্জুর না করতেন, তাহলে শয়তান আমাদেরকে ভ্রষ্ট করার তো আর সুযোগ পেত না। তাকে আল্লাহ এই সুযোগটি দিলেন কেন? এই প্রশ্নের জবাব সহজে বুঝার জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি। শিক্ষক ছাত্রদেরকে সারা বছর পড়ালেন। সিলেবাস শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা নেয়ার জন্য পরীক্ষার হলে বসালেন। কিন্তু ছাত্র পড়ালেখা শিখল না, যার ফলে প্রশ্নের জবাবে ভুল লিখতে থাকল। এজন্য শিক্ষক কি ছাত্রকে পরীক্ষার হল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দিবেন? বাংলাদেশে কি এমন কোন পরীক্ষা আছে? নেই। তাহলে কি করা হয়? ছাত্ররা ভুল লিখতে থাকলেও শিক্ষক তাকে লেখার সুযোগ দিয়ে রাখেন। পরে যদি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার পর ছাত্র জিজ্ঞেস করে যে, “স্যার! আমার পরীক্ষার ফল ঘোড়ার ডীম দিলেন কেন?” শিক্ষক বলবেন, “তুমি পরীক্ষার জবাবে ভুল লিখেছ তাই।” তখন ছাত্র যদি বলে, আমি যখন ভুল লিখলাম তখন তো আপনি দেখছিলেন এবং বুঝছিলেন যে, আমি এই লেখার দ্বারা ফেল করব, তাহলে জেনে বুঝে আমাকে এই সুযোগ দিলেন কেন? তখন এই ছাত্রকে উস্তাদ যেই জবাব দিবেন, কেউ যদি মহান আল্লাহর ব্যাপারে এই প্রশ্ন করে, আল্লাহও তাকে একই জবাব দিবেন।

আমি প্রথমেই বলেছি, দুনিয়াতে আল্লাহ মানুষ পাঠিয়েছেন পরীক্ষার করার জন্য। তোমাকে ভুল পথে যদি সুযোগ না দেয়া হয়, তাহলে এটা কিসের পরীক্ষা? ও পরীক্ষার্থী ছাত্ররা! তোমাদেরকে যদি পরীক্ষার হলে ভুল লিখলেও সুযোগ না দেয়া হয়, তাহলে এটা কিসের পরীক্ষা। সুতরাং ভুল পথে চালাবার জন্য, শয়তানকে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আরো পড়ুন>>

তাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE