Home / সাহিত্য / কিছু গল্প / আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই (ভালোবাসার ছোট্ট গল্প)

আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই (ভালোবাসার ছোট্ট গল্প)

সকাল থেকেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। থামার কোন নামই নেই।
প্রিয়ন্তী চুপ করে রুমে বসে আছে। উত্তরের জানালাটা খোলা। বৃষ্টির ঝাপটায় মাঝে মাঝে বিছানায় এসে পড়ছে।

বৃষ্টি হলে আমার মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু আজ মনটা খারাপ হয়ে গেল। কেন খারাপ হলো ?
কিছু কিছু সময় কারণ ছাড়ায় মন খারাপ হয়। আবার ভালোও হয়ে যায়।

আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই“। আমার বাড়ির সবাইকে জানিয়েছি। তোমার বাড়িতে বলার আগে তোমাকে জানানোটা দরকার তাই জানালাম।”
এই কথাগুলো শুধু মাথার ভিতরে ঘুরছে।

গত কাল আমার বান্ধবী সূরমার বাড়িতে গিয়েছিলাম। ওদের বাড়িতে আমি মাঝে মাঝেই যায়। যাবার একটা কারণ ও আছে। ওদের বাড়ির চিলে কৌঠায় লাইব্রেরী আছে । সুন্দর সুন্দর বই।
অবশ্য লাইব্রেরীটা ওর ভাইয়ের। আমি কলেজ থেকে ফেরার পথে প্রায় পড়ার জন্য বই নিয়ে আসি। একটা বই পড়া শেষ হলে আবার পাল্টে আনি।
পরীক্ষা শেষ হবার পরে আর ক্লাস করতে কলেজে যাওয়া হয় নাই।
বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। তাই ভাবলাম সূরোদের বাড়ি যায়। ওর সাথে দেখাও হবে, বইও এনে বাড়ি বসে পড়তে পারবো। শ্রাবণ মাসের বৃষ্টির কথা তো সবাই জানেই। বৃষ্টির সময় ঘরে বসে বই পড়ার মজাটাই অন্য রকম।

সূরোর সাথে কথা বলে যখন দু’জন ছাদে গেলাম তখন সূরোর ভাই লাইব্রেরী ঘরে বসে বই পড়ছে।
আজ শুক্রবার। তাই রাজ ভাইয়ের অফিস যাবার তাড়া নেই ।
চিলেকোঠার ঘর সাধারণ যেমন হয় তার থেকে এই ঘরটা বেশ বড়ো। দরজা দিয়ে ঢুকতে প্রথমে চোখে পড়বে ঘরের মাঝে রাখা একটি লম্বা মতো টেবিল। টেবিলের দুই পাশে দুইটা করে চারটা চেয়ার।
চার দিকে থাক আর থাকে থাকে বই।
দরজার ঠিক ডান পাশে দেয়াল ঘেষে একটা এক বেডের বিছানা আর একটা বালিস। শুনেছি পড়ার জন্য রাজ ভাইয়া মাঝে মাঝে এই ঘরে থাকে।

আমি ঘরে ঢুকে বই দেখছিলাম কোন কোন টা নেওয়া যায়।
তুই বই দেখ আমি খাবার জন্য কিছু নিয়ে আসি বলেই সূরো নিচে চলে গেল । রাজ ভাইয়ের সাথে সহজ ভাবেই কথা হয় । উনার সাথে আমার কথা বলতে বেশ ভালো লাগে। উনি বই পড়ছিলেন।
আমি নিজের কাজ করতে লাগলাম।
শরৎবাবুর বই আমার সব সময়ই ভালো লাগে। তার উপর বৃষ্টির দিনে একটা বই বার বার পড়তেও আমার আপত্তি নেই।

বই পড়া রেখে রাজ ভাই বললো, তোমার সাথে আমার একটা কথা আছে।
আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে বললাম, জি বলেন।
তখনি উপরের কথাগুলো বললো,
“আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। আমার বাড়ির সবাইকে জানিয়েছি। তোমার বাড়িতে বলার আগে তোমার জানানোটা দরকার তাই জানালাম।”…

লেখিকাঃ সোনিয়া খান

About সোনিয়া খাতুন রাখা

Check Also

জীবন

স্বামীর পরশে বদলে গেল স্ত্রীর জীবন (স্বামী স্ত্রী গল্প)

আবদুল ওয়াহহাব। আমেরিকান এক মুসলমান। কয়েকদিন পূর্বে বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলেছেন এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *